প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
চবি’তে অনুষ্ঠিত হলো ‘প্রফেসর ড. খবির উদ্দিন আহমেদ ন্যাশনাল মুট কোর্ট কম্পিটিশন ২০২৬’
চবি প্রতিনিধি ||
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এ. কে. খান আইন অনুষদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘প্রফেসর ড. খবির উদ্দিন আহমেদ ন্যাশনাল মুট কোর্ট কম্পিটিশন ২০২৬’। সোসাইটি ফর ক্রিটিকাল লিগ্যাল স্টাডিজ (এসসিএলএস) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ছিল ‘ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান ল’।প্রতিযোগিতায় দেশের ৪২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩টি দল লিখিত মেমোরিয়াল জমা দেয়। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত ১৬টি দল মৌখিক সাবমিশন পর্বে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতাটি প্রিলিমিনারি, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল—এই চার ধাপে অনুষ্ঠিত হয়।ফাইনাল রাউন্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিজয়ী দলের সদস্যরা হলেন জান্নাতুল মাওয়া শুচি, জাইদ একরাম ও নাফিসা তাবাসসুম। রানারআপ দলের সদস্যরা হলেন মাশরুরা হক ওয়াফা, মুমতাহিনা ইমরোজ ও সাকিব হোসেন।এছাড়া বেস্ট মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, বেস্ট ইমার্জিং টিম অ্যাওয়ার্ড পায় লিডিং ইউনিভার্সিটি এবং বেস্ট ওরালিস্ট নির্বাচিত হন লিডিং ইউনিভার্সিটির শামস আবিরুজ্জামান শাইয়ুম।শুক্রবার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জাস্টিস রেজাউল করিম।বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন) ও জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ এ. ই. এম. ইসমাইল হোসেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাফর উল্লাহ তালুকদার, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলএলএম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার শাহ মুহাম্মদ ইজাজ রহমান এবং ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদের ডিন এ. বি. এম. ইমদাদুল হক খান।অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সোসাইটি ফর ক্রিটিকাল লিগ্যাল স্টাডিজের মডারেটর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রকিবা নবী।প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন বলেন, “আইন পেশা একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও অনন্য অবস্থান। আদালত ন্যায়বিচারের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। সাংবিধানিকতা, আইনের শাসন এবং বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা মূলত নির্ভর করে বিচারক, আইনজীবী এবং আইন শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাডেমিক ব্যক্তিত্বদের ওপর।”উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, “এডজুডিকেটর প্যানেলে বসে সরাসরি একটি মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা দেখার অভিজ্ঞতা আমার জন্য বিশেষ। প্রতিযোগীরা যেভাবে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-সংশ্লিষ্ট জটিল বিষয় নিয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে আইন শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, আদালত-শিষ্টাচার, আইনি গবেষণা, নৈতিক আইনচর্চা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন যুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘাত, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের গভীরতর ধারণা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রকিবা নবী বলেন, “সোসাইটি ফর ক্রিটিকাল লিগ্যাল স্টাডিজ সবসময় শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনভিত্তিক এ আয়োজন বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতাকে নতুনভাবে অনুধাবনের সুযোগ তৈরি করেছে।”শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী দল, বিচারকমণ্ডলী, অতিথিবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক
ফোরকান মাহমুদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মাইকেল দাশ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত প্রতিদিনের চট্টগ্রাম