প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
আরব আমিরাতে ভিসা আইন ভঙ্গ করলে জেল, জরিমানা ও ডিপোর্টেশন
মাহিম উদ্দীন মুন্না,আরব আমিরাত ||
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (UAE) ভিসা ও রেসিডেন্সি আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ফেডারেল ডিক্রি আইন নং ২৯ অব ২০২১ অনুযায়ী, ভিসা সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জেল, লাখ লাখ দিরহাম জরিমানা এবং দেশ থেকে ডিপোর্টেশনের মতো কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে।গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে আমিরাতের এমন ১০টি গুরুতর ভিসা অপরাধের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলোর কারণে প্রবাসীরা বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।ভিসা আইনের ১০ গুরুতর অপরাধ১. অবৈধভাবে কাউকে আশ্রয় দেওয়াযে ব্যক্তি অবৈধভাবে দেশে অবস্থানকারী কাউকে আশ্রয়, সহায়তা বা চাকরি দেবেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ অপরাধে কমপক্ষে ২ মাসের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ থেকে ৫০ লাখ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।২. ভিজিট ভিসায় কাজ করাট্যুরিস্ট বা ভিজিট ভিসায় এসে কাজ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের অপরাধে জেল, জরিমানা এবং বহিষ্কারের শাস্তি হতে পারে।৩. অন্য উদ্দেশ্যে ভিসা ব্যবহারযে ভিসা যে উদ্দেশ্যে ইস্যু করা হয়েছে, তা ভিন্ন কাজে ব্যবহার করলে সেটিও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।৪. মিথ্যা তথ্য প্রদানভিসা বা রেসিডেন্সি সংক্রান্ত আবেদনে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার দিরহাম জরিমানা হতে পারে।৫. জাল ভিসা বা নথি তৈরিভুয়া ভিসা, রেসিডেন্সি পারমিট বা সরকারি নথি তৈরি, ব্যবহার কিংবা সরবরাহ করা গুরুতর অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।৬. ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশে অবস্থান করলে প্রতিদিনের ভিত্তিতে জরিমানা গুনতে হবে। জরিমানা পরিশোধ না করলে জেলও হতে পারে।৭. অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তাকাউকে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশে সহায়তা করলে তা মানবপাচার সংশ্লিষ্ট অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।৮. পলাতক কর্মী নিয়োগকোম্পানি বা ব্যক্তি যদি ‘অ্যাবসকন্ড’ বা পলাতক ঘোষিত কর্মীকে চাকরি দেন, তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।৯. স্পন্সরশিপের অপব্যবহারকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভিসা স্পন্সরশিপ ব্যবস্থার অপব্যবহার করলে বড় অঙ্কের জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।১০. কোম্পানির মাধ্যমে আইন ভঙ্গকোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বা কর্মচারী ভিসা জালিয়াতি বা অবৈধ নিয়োগে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেও জরিমানা ও সাময়িক বন্ধের মুখোমুখি হতে হতে পারে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসীদের ভিসা ও রেসিডেন্সি সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। আইন ভঙ্গ করলে শুধু জরিমানা নয়, ভবিষ্যতে আমিরাতে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
ফোরকান মাহমুদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মাইকেল দাশ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত প্রতিদিনের চট্টগ্রাম