প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামে ৫ ব্যাংকের আমানত ফেরত ও ‘হেয়ার কাট’ বাতিলের দাবি, ব্যাংক ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক: ||
শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা তাদের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ‘হেয়ার কাট’ নামে পরিচিত বৈষম্যমূলক নীতি বাতিল এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন চালুর দাবিতে সরকারের উচ্চপর্যায় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আমানতকারীদের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের একটি সিদ্ধান্তের ফলে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত সাধারণ মানুষের আমানতের ওপর বিগত দুই বছরের মুনাফা কর্তন করে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে লাখ লাখ আমানতকারী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, এসব ব্যাংকের অধিকাংশ গ্রাহক সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, প্রবাসী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। জমি বিক্রির অর্থ, পেনশনের টাকা, প্রবাসী আয় কিংবা চিকিৎসার জন্য সঞ্চিত অর্থ ব্যাংকে জমা রেখেও তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনমতো টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। ফলে অনেক পরিবার সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।বক্তারা দাবি করেন, প্রায় দুই বছর ধরে অর্থ উত্তোলনে সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী পরিবারের প্রায় ৩ কোটি সদস্য মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন।সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আমানতকারীরা এর আগে প্রধান উপদেষ্টা, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রশাসকদের কাছে একাধিকবার স্মারকলিপি দিয়েছেন। জাতীয় সংসদের সামনে মানববন্ধন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।অভিযোগ করা হয়, একেক ব্যাংকের প্রশাসক একেক ধরনের নীতি গ্রহণ করায় গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের টাকা ব্যবহার করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ হলেও গ্রাহকরা নিজেদের অর্থ তুলতে পারছেন না।সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— ‘হেয়ার কাট’ নীতি বাতিল করে বিগত দুই বছরের পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের মূল অর্থ ফেরত দেওয়া, পাঁচটি ব্যাংকে অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো স্বাভাবিক লেনদেন চালু করা, মেয়াদোত্তীর্ণ এফডি, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং ২০২৬ সালের জন্য ঘোষিত নতুন মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।সংবাদ সম্মেলনে আমানতকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা কোনো অস্থিতিশীলতা চান না; বরং নিজেদের কষ্টার্জিত আমানতের নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার ফেরত চান। তবে দ্রুত সমাধান না হলে ব্যাংকের শাখা পর্যায়ে অবস্থান কর্মসূচি, ব্যবস্থাপক অবরুদ্ধকরণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
ফোরকান মাহমুদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মাইকেল দাশ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত প্রতিদিনের চট্টগ্রাম