প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
২০২৩ সালের চাকরিচ্যুতির ক্ষোভ: ২০২৬-এ দুবাই কনস্যুলেটকে বির্তকিত করার অপচেষ্টার অভিযোগ
মাহিম উদ্দীন মুন্না,আরব আমিরাত ||
বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, দুবাই-এর সাবেক ওয়েলফেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. হানিফ খোকনের ফেসবুক লাইভ ও পোস্টকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ১১টার দিকে Md Hanif Khokon নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিও বার্তা ও পৃথক লিখিত পোস্টে কনস্যুলেটের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে অনুসন্ধানে তার এই অভিযোগের নেপথ্যে নানা অনিয়ম, ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি এবং রাজনৈতিক ভোলবদলের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।ভিডিও বার্তায় হানিফ খোকন দাবি করেন, ২০১৩ সাল থেকে কনস্যুলেটে চাকরি শুরু করার পর ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। কিন্তু ২০২৫ সাল পর্যন্ত তার রেসিডেন্স ভিসা বৈধ ছিল। কনস্যুলেট থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর তার ভিসা বাতিলে দীর্ঘ প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে তিনি আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান কনসাল জেনারেল ও সাবেক শ্রম কাউন্সিলর ছিলেন তাকে 'ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী লীগের সমর্থক' বলে আখ্যা দেন।তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হানিফ খোকন কনস্যুলেটে স্থানীয়ভিত্তিক চাকরি করতেন, যার শর্ত অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় চাকরিচ্যুতির অধিকার রাখে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রবাসী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রশ্ন তুলেছেন, ২০২৩ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর দীর্ঘ দিন কেন তিনি নিজেই ভিসা বাতিল ও ক্যানসেল করেননি! আমিরাতের আইন অনুযায়ী, কনস্যুলেট ভিসা ক্যানসেল না করলেও তিনি নিজেই আইনি প্রক্রিয়ায় তা করতে পারতেন। তা না করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কেন তিনি কনস্যুলেটের ভিসার সুবিধা ভোগ করলেন, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। তাছাড়া, চাকুরিচ্যুত একজন কর্মচারীর ক্ষেত্রে কনস্যুলেটের স্পন্সরকৃত আইডি ও ভিসা ব্যবহার করাও আইনের পরিপন্থী বলছেন কমিউনিটি অনেক নেতা।বর্তমান কনসাল জেনারেলকে 'আওয়ামী লীগ সমর্থক' বলে খোকন প্রোপাগান্ডা চালালেও, খোকনের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। তার প্রোফাইলে ছবিতে সাবেক প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমেদসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একাধিক কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী নেতাদের সাথে তার হাস্যোজ্জ্বল ছবি রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজেকে বাঁচাতে এবং কনস্যুলেটকে চাপে রাখতেই তিনি এখন 'ফ্যাসিবাদ বিরোধী' কার্ড খেলছেন বলে মনে করছেন প্রবাসীরা।অনুসন্ধানে হানিফ খোকনের বিরুদ্ধে দুবাইস্থ জনতা ব্যাংকের একটি বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির প্রমাণ মিলেছে। ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে সরকারি কর্মকর্তা ও কনস্যুলেটের নাম ব্যবহার করে ক্ষমতার অপপ্রভাবে তিনি ৩০ হাজার দিরহামের একটি ব্যক্তিগত লোন ঋণ নেন। দীর্ঘদিন সেই ঋণ পরিশোধ না করায় গত ২২ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে ব্যাংক থেকে তাকে একটি চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়,আগামী ৩১ আগস্ট, ২০২৫ তারিখের মধ্যে সুদসহ বকেয়া মোট ৫০ হাজার দিরহাম পরিশোধ না করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই বিশাল অংকের ঋণখেলাপি মামলা থেকে বাঁচতেই তিনি এখন কনস্যুলেটের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন।আরব আমিরাতে কনস্যুলেটের একজন সাধারণ ওয়েলফেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্টের স্বল্প বেতনের চাকরি করে পরিবার নিয়ে হানিফ খোকনের চরম বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে নানা গুঞ্জন ছিল। সরকারি পদের অপব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গা থেকে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ এবং নানা অপকর্মের মাধ্যমে তিনি এই বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।হানিফ খোকনের এই ফেসবুক প্রোপাগান্ডার বিষয়ে বর্তমান কনসাল জেনারেলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, হানিফ খোকন চাকরিচ্যুত হয়েছেন ২০২৩ সালে, সে সময় আমি কনসাল জেনারেল-এর দায়িত্বে ছিলাম না। তার চাকরির নিয়োগ এবং চাকরিচ্যুতি, দুটিই হয়েছে তৎকালীন সরকারের আমলে। তার বিষয়ে আমি তেমন অবগতও ছিলাম না। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংক ঋণ ও অবৈধ অর্থ উপার্জনের আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে এবং বর্তমান প্রশাসনকে বিতর্কিত করতেই সাবেক এই কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। প্রবাসীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সরকারি পদের অপব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক
ফোরকান মাহমুদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
মাইকেল দাশ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত প্রতিদিনের চট্টগ্রাম