চট্টগ্রামের রাউজানে একদিনের ব্যবধানে ফের দুর্বৃত্তের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নাছির তালুকদার (৫৪) নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। ২৬ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমশের পাড়া গ্রামের পূর্ব পাশে আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়।
গুলিবিদ্ধ নাছির তালুকদার একই এলাকার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে। তিনি রাউজানের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী অনুসারী এবং স্থানীয়ভাবে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন বলে জানা গেছে।
এই বিষয়ে উত্তর জেলা যুবদলের সহ সভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, নিহত নাছির তালুকদার আমাদের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত যুবদল কর্মী ছিলেন। তার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্চি। একটি মহল দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে একের পর এক আমাদের কর্মীদের খুন করছে। খুনি যেই হউক তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আমরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলব।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গুলির শব্দ শুনে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে নাছির তালুকদারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এবং রাত আনুমানিক ১২টায় হাসপাতালে পৌছালে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসাইন জানান, নাছির তালুকদারের তলপেট ও পায়ে একাধিক গুলি লেগেছে। এতে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে গেছে। ঘটনার পর পরই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানিয়েছেন, পাহাড় ও কৃষিজমি কেটে মাটির ব্যবসা, পূর্বের শত্রুতা জের এবং স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
গত ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসেও প্রতিপক্ষরা নাছির তালুকদারকে তার বাড়ির পাশে কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে ফিরে আসেন। ১৫ মাস পর পুনরায় দুর্বৃত্তের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়৷
রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ সাজেদুল ইসলাম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গুলিবিদ্ধ নাছির তালুকদারকে হাসপাতালে নেওয়া পথে তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি। ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং অভিযান অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ভোরে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আইলীখীল গ্রামে মুহাম্মদ কাউসার উজ জামান বাবলু (৩৬) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় রাউজান এলাকায় চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
.png)
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রামের রাউজানে একদিনের ব্যবধানে ফের দুর্বৃত্তের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নাছির তালুকদার (৫৪) নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। ২৬ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমশের পাড়া গ্রামের পূর্ব পাশে আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়।
গুলিবিদ্ধ নাছির তালুকদার একই এলাকার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে। তিনি রাউজানের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী অনুসারী এবং স্থানীয়ভাবে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন বলে জানা গেছে।
এই বিষয়ে উত্তর জেলা যুবদলের সহ সভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, নিহত নাছির তালুকদার আমাদের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত যুবদল কর্মী ছিলেন। তার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্চি। একটি মহল দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে একের পর এক আমাদের কর্মীদের খুন করছে। খুনি যেই হউক তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আমরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলব।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গুলির শব্দ শুনে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে নাছির তালুকদারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এবং রাত আনুমানিক ১২টায় হাসপাতালে পৌছালে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসাইন জানান, নাছির তালুকদারের তলপেট ও পায়ে একাধিক গুলি লেগেছে। এতে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে গেছে। ঘটনার পর পরই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানিয়েছেন, পাহাড় ও কৃষিজমি কেটে মাটির ব্যবসা, পূর্বের শত্রুতা জের এবং স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
গত ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসেও প্রতিপক্ষরা নাছির তালুকদারকে তার বাড়ির পাশে কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে ফিরে আসেন। ১৫ মাস পর পুনরায় দুর্বৃত্তের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়৷
রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ সাজেদুল ইসলাম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গুলিবিদ্ধ নাছির তালুকদারকে হাসপাতালে নেওয়া পথে তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি। ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং অভিযান অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ভোরে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আইলীখীল গ্রামে মুহাম্মদ কাউসার উজ জামান বাবলু (৩৬) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় রাউজান এলাকায় চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
.png)
আপনার মতামত লিখুন