চট্টগ্রাম উত্তরে যুবকদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে যুবশক্তির ৩৬৫ দিনের পরিকল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম উত্তর জেলার যুবকদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ৩৬৫ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে জাতীয় যুবশক্তি। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সাত উপজেলায় সাতটি যুব সংলাপ, ৯০ দিনের মধ্যে তিনটি বিনামূল্যের কারিগরি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু এবং এক বছরে এক হাজার উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের রহমান হলে নতুন কমিটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব পরিকল্পনার কথা জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুবশক্তি চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী।
সংগঠনটির সদস্য সচিব এইচ এম ইমরান বিন রশিদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম উত্তরের সাত উপজেলায় সাতটি উন্মুক্ত যুব সংলাপ আয়োজন করা হবে। এসব সংলাপের মাধ্যমে মেধা ও সততার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। এখানে কোনো ভাই বা কোটা চলবে না।
পরবর্তী ৯০ দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, মিরসরাই, হাটহাজারী ও রাউজানে তিনটি বিনামূল্যের প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হবে। কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাডভান্সড ওয়েল্ডিং ও ইলেকট্রিক্যাল, ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সাপোর্ট এবং আধুনিক কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ। প্রশিক্ষণ শেষে চাকরির ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীদের রেফারেন্স দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সংগঠনটির।
এক বছরের পরিকল্পনা সম্পর্কে রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এক হাজার উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ‘উদ্যোক্তা সাপোর্ট সেল’ গঠন করা হবে। এ সেলের মাধ্যমে যুবকদের ব্যবসার ধারণা থেকে শুরু করে ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংকঋণ ও বাজারসংযোগ পেতে সহযোগিতা করা হবে।
তিনি বলেন, “ফটিকছড়ির মরিচ, রাঙ্গুনিয়ার আনারস—এগুলো আর কাঁচা বিক্রি হবে না, এগুলো প্রসেস হয়ে ব্র্যান্ড হয়ে ঢাকায় যাবে।”
চট্টগ্রাম উত্তরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে যুবশক্তির আহ্বায়ক বলেন, এ জেলায় দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পনগর মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। সেখানে ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব রয়েছে। সীতাকুণ্ডে দেশের ৬০ শতাংশ জাহাজভাঙা শিল্প রয়েছে। এ ছাড়া রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িতে বিপুল পরিমাণ প্রবাসী আয় আসে।
এত সম্ভাবনা থাকার পরও স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৩ অনুযায়ী, দেশে শিক্ষিত যুব বেকারত্বের হার ৪১ শতাংশ এবং চট্টগ্রাম বিভাগে তা ৪৪ শতাংশ ছাড়িয়েছে। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বর্তমানে ৪০ হাজার মানুষ কাজ করছেন। আগামী দুই বছরে সেখানে আরও এক লাখ দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে। অথচ সেখানে চট্টগ্রাম উত্তর জেলার স্থানীয় শ্রমিকের অংশ ১৫ শতাংশেরও কম।
তিনি বলেন, স্থানীয় যুবকদের দক্ষতার ঘাটতির কারণে শিল্পাঞ্চলের কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। কর্মহীন যুবকদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “আমরা সরকারের প্রতিপক্ষ নই, আমরা সরকারের সহযোগী। রাষ্ট্র যেখানে পৌঁছাতে পারেনি, আমরা সেখানে পৌঁছাতে চাই। আমাদের কাজের জবাবদিহিতা থাকবে আপনাদের কাছে। প্রতি তিন মাস পরপর আজকের মতোই আপনাদের ডেকে আমরা আমাদের কাজের হিসাব দেব। আমাদের আয়-ব্যয় আপনাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাদেরকে দল হিসেবে নয়, একটি সম্ভাবনা হিসেবে দেখুন। আপনাদের লেখনীতে এই বার্তাটি ছড়িয়ে দিন যে, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার যুবকরা আর দয়া চায় না, তারা সুযোগ চায়। আপনারা প্রশ্ন করুন, সমালোচনা করুন, কিন্তু আমাদের পাশে থাকুন।”
যুবশক্তির জেলা কমিটি গঠন
গত ২৩ অক্টোবর জাতীয় যুবশক্তি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার এক বছরের জন্য আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং এইচ এম ইমরান বিন রশিদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল এ কমিটির অনুমোদন দেন। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদের সুপারিশক্রমে কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল মাহমুদ। যুগ্ম আহ্বায়ক সায়েম উদ্দিন চৌধুরী, বেদার উদ্দিন চৌধুরী ও মোহাম্মদ হোসাইন।
সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসকিন। যুগ্ম সদস্য সচিব ফাহাদ ওমর, মোহাম্মদ পারভেজ, রকিবুল ইসলাম রাফি ও ইমন আনসারী। মুখ্য সংগঠক সারোয়ার নূর, সিনিয়র সংগঠক রিদোয়ান হৃদয় এবং সংগঠক তাফসিরুল ইসলাম মাহিন ও সাজ্জাদুল ইসলাম সিহাব। দপ্তর সম্পাদক ইমাম শরিফ পাবন এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ সজিব উদ্দিন।
.png)
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রাম উত্তরে যুবকদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে যুবশক্তির ৩৬৫ দিনের পরিকল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম উত্তর জেলার যুবকদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ৩৬৫ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে জাতীয় যুবশক্তি। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সাত উপজেলায় সাতটি যুব সংলাপ, ৯০ দিনের মধ্যে তিনটি বিনামূল্যের কারিগরি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু এবং এক বছরে এক হাজার উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের রহমান হলে নতুন কমিটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব পরিকল্পনার কথা জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুবশক্তি চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী।
সংগঠনটির সদস্য সচিব এইচ এম ইমরান বিন রশিদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম উত্তরের সাত উপজেলায় সাতটি উন্মুক্ত যুব সংলাপ আয়োজন করা হবে। এসব সংলাপের মাধ্যমে মেধা ও সততার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। এখানে কোনো ভাই বা কোটা চলবে না।
পরবর্তী ৯০ দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, মিরসরাই, হাটহাজারী ও রাউজানে তিনটি বিনামূল্যের প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হবে। কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাডভান্সড ওয়েল্ডিং ও ইলেকট্রিক্যাল, ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সাপোর্ট এবং আধুনিক কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ। প্রশিক্ষণ শেষে চাকরির ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীদের রেফারেন্স দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সংগঠনটির।
এক বছরের পরিকল্পনা সম্পর্কে রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এক হাজার উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ‘উদ্যোক্তা সাপোর্ট সেল’ গঠন করা হবে। এ সেলের মাধ্যমে যুবকদের ব্যবসার ধারণা থেকে শুরু করে ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংকঋণ ও বাজারসংযোগ পেতে সহযোগিতা করা হবে।
তিনি বলেন, “ফটিকছড়ির মরিচ, রাঙ্গুনিয়ার আনারস—এগুলো আর কাঁচা বিক্রি হবে না, এগুলো প্রসেস হয়ে ব্র্যান্ড হয়ে ঢাকায় যাবে।”
চট্টগ্রাম উত্তরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে যুবশক্তির আহ্বায়ক বলেন, এ জেলায় দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পনগর মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। সেখানে ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব রয়েছে। সীতাকুণ্ডে দেশের ৬০ শতাংশ জাহাজভাঙা শিল্প রয়েছে। এ ছাড়া রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িতে বিপুল পরিমাণ প্রবাসী আয় আসে।
এত সম্ভাবনা থাকার পরও স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৩ অনুযায়ী, দেশে শিক্ষিত যুব বেকারত্বের হার ৪১ শতাংশ এবং চট্টগ্রাম বিভাগে তা ৪৪ শতাংশ ছাড়িয়েছে। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বর্তমানে ৪০ হাজার মানুষ কাজ করছেন। আগামী দুই বছরে সেখানে আরও এক লাখ দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে। অথচ সেখানে চট্টগ্রাম উত্তর জেলার স্থানীয় শ্রমিকের অংশ ১৫ শতাংশেরও কম।
তিনি বলেন, স্থানীয় যুবকদের দক্ষতার ঘাটতির কারণে শিল্পাঞ্চলের কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। কর্মহীন যুবকদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “আমরা সরকারের প্রতিপক্ষ নই, আমরা সরকারের সহযোগী। রাষ্ট্র যেখানে পৌঁছাতে পারেনি, আমরা সেখানে পৌঁছাতে চাই। আমাদের কাজের জবাবদিহিতা থাকবে আপনাদের কাছে। প্রতি তিন মাস পরপর আজকের মতোই আপনাদের ডেকে আমরা আমাদের কাজের হিসাব দেব। আমাদের আয়-ব্যয় আপনাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাদেরকে দল হিসেবে নয়, একটি সম্ভাবনা হিসেবে দেখুন। আপনাদের লেখনীতে এই বার্তাটি ছড়িয়ে দিন যে, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার যুবকরা আর দয়া চায় না, তারা সুযোগ চায়। আপনারা প্রশ্ন করুন, সমালোচনা করুন, কিন্তু আমাদের পাশে থাকুন।”
যুবশক্তির জেলা কমিটি গঠন
গত ২৩ অক্টোবর জাতীয় যুবশক্তি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার এক বছরের জন্য আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং এইচ এম ইমরান বিন রশিদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল এ কমিটির অনুমোদন দেন। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদের সুপারিশক্রমে কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল মাহমুদ। যুগ্ম আহ্বায়ক সায়েম উদ্দিন চৌধুরী, বেদার উদ্দিন চৌধুরী ও মোহাম্মদ হোসাইন।
সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসকিন। যুগ্ম সদস্য সচিব ফাহাদ ওমর, মোহাম্মদ পারভেজ, রকিবুল ইসলাম রাফি ও ইমন আনসারী। মুখ্য সংগঠক সারোয়ার নূর, সিনিয়র সংগঠক রিদোয়ান হৃদয় এবং সংগঠক তাফসিরুল ইসলাম মাহিন ও সাজ্জাদুল ইসলাম সিহাব। দপ্তর সম্পাদক ইমাম শরিফ পাবন এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ সজিব উদ্দিন।
.png)
আপনার মতামত লিখুন